Tuesday, April 26, 2011

ক্রুশীয় সপ্তবানী: তৃতীয় বাণী

হে নারী ঐ দেখ তোমার পুত্র (যোহন ১৯:২৬)
ভূমিকা: সবাইকে খ্রীষ্টের ক্রুশীয় রক্তের প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাই। আজকে আমরা যীশু খ্রীষ্টের মৃত্যু দিবস পালন করতে এখানে একত্র হয়েছি। আমরা বিভিন্নভাবে গত একটি সপ্তাহ পালন করে আসছি। রাজারবেশে যীশুর যিরুশালেমে প্রবেশ, প্রভুর ভোজের মাধ্যমে নূতন নিয়ম স্থাপন, গেৎশিমানী বাগানে যীশুর প্রার্থনা ও শত্রুদের দ্বারা তিনি ধৃত হন। তারপর সারা রাত তাঁর বিচার। এখন তাঁর শেষ পরিণতি ক্রুশীয় মৃত্যু। তিনি ক্রুশের উপর বেঁচে ছিলেন ৩ ঘন্টা। দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্য্যন্ত। এই ৩ ঘন্টায় তিনি আমাদের জন্য ৭টা বাণী বলেছিলেন। যেগুলি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাণী। এই বাণীগুলির মধ্যে লুকিয়ে আমাদের প্রতি যীশুর অসীম প্রেম, প্রতিশ্রুতি, দায়দায়িত্ব, দিকনির্দেশনা।  ঈশ্বরের আর্শীবাদে এখন আমি ৩য় বাণী সম্বন্ধে আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করব। আর সেটা আমরা পাব সাধু যোহন লিখিত সুসমাচার ১৯ অধ্যায় ২৬-২৭ পদে। আসুন আমরা পাঠ করি। যোহন লিখিত সুসমাচার ১৯ অধ্যায় ২৬ এবং ২৭ পদ: যীশু মাতাকে দেখিয়া, এবং যাঁহাকে প্রেম করিতেন সেই শিষ্যকে নিকটে দাঁড়াইয়া আছেন দেখিয়া, মাতাকে কহিলেন, হে নারি, ঐ দেখ, তোমার পুত্র। পরে তিনি সেই শিষ্যকে কহিলেন, ঐ দেখ, তোমার মাতা। তাহাতে সেই দন্ড অবধি ঐ শিষ্য তাঁহাকে আপন গৃহে লইয়া গেলেন।
পাঠের পুনরালোচনা:  যীশু যখন পৃথিবীতে ছিলেন তখন সব সময় তাঁর সঙ্গে প্রচুর লোক থাকত। যখন তাঁকে ক্রুশে দেয়া হয়েছিল তখও তিনি একা ছিলেন না। তাঁর সঙ্গে ছিল হাজার হাজার লোক। সেখানে ছিলেন  সৈন্যরা,ফরীশীরা, সদ্দুকীরা, ধর্মগুরুরা, বিদেশী অনেক লোক। আরও ছিলেন  যীশুর শিষ্যরা, মহিলারা এবং আরও অনেকে। যারা সেদিন সেখানে এসেছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন যীশুর প্রিয় শিষ্য যোহন। যোহনকে যীশু তাঁর অন্য শিষ্যদের চেয়ে বেশী ভালবাসতেন এবং তাঁর প্রিয় মাতা মরিয়ম। আর তিনি এই বাণীটি তাঁর প্রিয় শিষ্য ও মায়ের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন। তিনি মাকে বললেন, হে নারি ঐ দেখ, তোমার পুত্রআর শিষ্যকে বললেন, ঐ দেখ, তোমার মাতা"।
মূল বিষয়:যীশুকে ভালবাসলে তিনি দায়িত্ব দেন।
যীশুর এই বাণীটি থেকে আমরা কয়েকটি বিষয় দেখতে পাই:
১। দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ: আমরা এখনকার এই ঘটনা যদি পর্য্যালোচনা করি তবে গত রাতের ঘটনা এবং পরবর্তী ঘটনাগুলি স্মরণ করতে হবে। গেৎশিমানী বাগানে শত্রুরা যীশুকে ধরার পর শিষ্যেরা পালিযে গিয়েছিল এবং তাদের মধ্যে কেউ একজন যীশুর মাকে খবর দিয়েছিল। পিতর ও যোহন ছাড়া আর কোন শিষ্যের কথা আমরা আর দেখতে পাই না। পরবর্তীতে পিতরও যীশুকে তিনবার অস্বীকার করার পর সেখান থেকে চলে গিয়েছিল। আমরা আর তাকে এই ঘটনাতে পাইনা। কিন্তু যীশুর মা খবর শোনার পর ছুটে এসেছিলেন এবং সব সময় তাঁর আশে পাশে ছিল। তিনি দেখেছেন কিভাবে তাঁর বিচার হয়েছে? তিনি দেখেছেন কিভাবে তাঁর নির্দোষ, নিষ্পাপ সন্তানকে চাবুকের আঘাতে ক্ষত বিক্ষত করেছে নিষ্ঠুর সৈনিকেরা। তাঁর প্রিয় সন্তানের মাথায় কাঁটার মুকুট বসিয়েছে। সেখান থেকে দর দর করে রক্ত ঝরছে। চাবুকের আঘাতে শরীরের মাংস থোক থোক হয়ে উঠে আসছে। তিনি দেখেছেন মৃত্যুর জন্য তাঁর সন্তানকে ক্রুশে ঝোলান হয়েছে। তিনি শুনতে পাচ্ছেন ক্রুশ থেকে তাঁর সন্তানের আর্ত চিৎকার। আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছেন। কিছুক্ষনের মধ্যেই মুত্যুর কোলে ঢুলে পড়বেন। তাঁর একমাত্র সন্তানের মৃত্যু। মৃত্যুর পর আর কেউ থাকবে না যে তাকে মা বলে ডাকবে। কেউ তাকে হয়তোবা একমুঠো খেতেও দেবে না। তাঁর ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত ও নিরাপত্তাহীন। পথের ক্লান্তি, পুত্রশোক এবং ভবিষ্যৎ চিন্তায় তিনি বাকশুন্য হয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে পুত্রের দিকে তাকিয়ে আছেন। পাশে তাঁরই পুত্রের শিষ্য যোহন দাঁড়িয়ে আছেন। যীশু তাদের দেখলেন। মায়ের চোখের জল কাঁদতে কাঁদতে শুকিয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে ভাষা, হৃদয়ে তা হাজারো দুশ্চিন্তা। ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় ছেয়ে আছে তার হৃদয়। অসহায় মায়ের প্রতি তাঁর কর্তব্যবোধ জেগে উঠল। তিনি  অলেৌকিকভাবে মায়ের জন্য অনেক কিছু করতে পারতেনকিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি মানুষের উপর নির্ভর করলেন। তিনি তাঁর প্রিয় শিষ্য যোহনের উপর মায়ের দায়িত্ব দিলেন। তিনি মায়ে সমস্ত চিন্তার অবসান করলেন, এই বাণীর মাধ্যমে, হে নারি ঐ দেখ তোমার পুত্র।
২। ব্যবস্থা পালন: মথি ৫:১৭ পদে যীশু বলেন, "মনে করিও না যে, আমি ব্যবস্থা কি ভাববাদী গ্রন্থ লোপ করিতে আসিয়াছি; আমি লোপ করিতে আসি নাই, কিন্তু পূর্ণ করিতে আসিয়াছি
ঈশ্বর মোশিকে দশ আজ্ঞা  দিয়েছিলেন। তাঁর মধ্যে একটি আজ্ঞা হল, পিতামাতাকে সমাদর করিওঈশ্বরের এই অদেশ কেবল তখনকার লোকদের জন্যই ছিল না। কিন্তু তা হলো সর্বকালের সর্বলোকের জন্য।
প্রভু যীশু ক্রুশের উপর পাপী মানুষের মুক্তির জন্য জীবন সমর্পন করছেন। ক্রুশের উপর থেকে তাঁর পক্ষে এই আজ্ঞা পালন করা সম্ভব ছিলনা। ক্রুশের উপর তিনি পৃথিবীর কঠিনতম যাতনা ভোগ করছেন। ঠিক তখন তিনি করুণ দৃষ্টি দিয়ে মাকে দেখলেন। তাঁর এই দৃষ্টির মধ্যে ছিল মায়ের প্রতি ভালবাসা ও কর্তব্যবোধ। তিনি মায়ের দিকে তাকিয়ে মায়ের হৃদয়ের নীরব ভাষা বুঝে নিয়েছিলেন। যখন তিনি ক্রুশের উপর পাপী মানুয়ের পাপের যাতনা ভোগ করছেন তখন তিনি তাঁর প্রিয়, অসহায় মায়ের জন্য কি করতে পারেন। যীশু মরিয়মের হৃদয়ের ভাষা বুঝে মার পাশে দাঁড়ানো তাঁর প্রিয় শিষ্যকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ঐ দেখ তোমার মাতা এবং মাকে বললেন ঐ দেখ তোমার পুত্র। আর এইভাবে তিনি তাঁর মায়ের দায়িত্ব তাঁর প্রিয় শিষ্যের উপর দিয়ে মাকে ভবিষ্যৎ দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করলেন। একই সাথে মোশির কাছে দেওয়া  "পিতা মাতাকে সমাদর করিও"   ঈশ্বরের এই আজ্ঞাটি পালন করলেন।
উপসংহার: যীশুকে ভালবাসলে তিনি দায়িত্ব দেন।
খ্রীষ্টেতে প্রিয় ভাই ও বোনেরা আমরা শাস্ত্র থেকে জানতে পারি যোহন ছিল যীশুর প্রিয় শিষ্য। তাছাড়া যীশুর এই চরম সন্কটময় মূহূর্তে, অন্তিম মূহূর্তে যখন যীশুর অন্যান্য শিষ্যরা ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল, তখনও আমরা দেখি একমাত্র যোহনই শেষমূহূর্ত পর্য্যন্ত যীশুর পাশে ছিলএথেকে আমরা বুঝতে পারি তিনি যীশুকে কত ভালবাসতেন, নিজের শত বিপদের কথা চিন্তা করেও একমূহূর্তের জন্য যীশুকে ছেড়ে যাননি। যীশু ক্রুশের উপর থেকে তা দেখলেন এবং বুঝলেন যে যোহন তাঁকে কত ভালবাসে। শুধুমাত্র এমন শিষ্যের উপরই তাঁর প্রিয় মায়ের দায়িত্ব দেওয়া যায়। তাই তিনি জীবনের শেষমূহূর্তে মাকে যোহনের হাতে তুলে দিলেন।
তাছাড়া আমরা আরও দেখি যোহন ২১:১৫-১৮ পদে, তিনি পিতরকে ৩বার জিজ্ঞাসা করেছিলেন, পিতর তাঁকে ভালবাসে কিনা? পিতর তিনবারই উত্তর দিয়েছিলেন যে, সে যীশুকে ভালবাসে। আর যীশু তাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন আমার মেষগণকে চরাও
খ্রীষ্টেতে প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আজ যীশু খ্রীষ্ট সশরীরে আমাদের সামনে নেই, নেই তাঁর প্রিয় মা মরিয়ম। কিন্তু আছে আমাদের নিজেদের পিতামাতা, আছে তাঁর সেই প্রিয় মেষ মন্ডলীর সগস্য সদস্যা। মন্ডলীর আমাদের আত্নিক পিতা মাতা। মন্ডলী আমাদের আত্নিক মানুষ করেছে। একজন মাবাবার যেমন দায়িত্ব সন্তানদের ভরণপোষণ করে বড় করা, উপযুক্তভাবে গড়ে তোলা। তেমনি মন্ডলীরও দায়িত্ব তার সদস্যদের আত্নিকভাবে বৃদ্ধি করা।
তদ্রূপভাবে সন্তান স্বাবলম্বী হলে যেমন পিতামাতার  দায়িত্ব তার কাঁধে পড়ে। তেমনি মন্ডলীর দায়িত্বও তার উপরই বর্ত্তায়
বর্তমানে আমাদের পিতামাতারা কেমন আছেন? সিনেমা, নাটকে দেখি শুধু তাই নয়, বাস্তবিক জীবনে অনেকে বাবামাকে পরিবারের বোঝা মনে করে। তাদের খাওয়া পরা দিতে চাই না। তারা নীরবে নিভৃতে চোখের জল ফেলেন। শুধু তাই নয় আমাদের পিতা মাতাকে আশ্রয় নিতে হয় অনাথ বা বৃদ্ধাশ্রমে।
খ্রীষ্টেতে প্রিয় ভাই ও বোনেরা, ঈশ্বরের আদেশ পিতামাতাকে সমাদর করিও বাইবেলে অনেক জায়গায় আছে, যে কেহ আপন পিতাকে কি মাতাকে শাপ দেয়, তাহার প্রাণদন্ড অবশ্য হইবে।
অতএব খ্রীষ্টান হিসাবে আমরা সবাই যীশুর শিষ্য। আমরা সবাই যীশুকে ভালবাসি। আমাদের কাছে যীশুর মা মরিয়ম নেই। কিন্তু আছে আমাদের অসহায় বৃদ্ধ মা-বাবা ও মন্ডলীর সদস্য সদস্যা। আসুন আমরা আমাদের পিতামাতাদের সমাদর করি ও মন্ডলীর মেষগণকে চরাই। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমি শেষ করছি।
ইন্মানূয়েল।
(প্রস্তুত কারক: ডেভিড সরকার)

Monday, April 4, 2011

ক্রুশীয় সপ্তবানী: প্রথম বাণী


প্রথম বাণী: পিতা, ইহাদিগকে ক্ষমা কর, কেননা ইহারা কি করিতেছে, তাহা জানে না।" (লূক ২৩:৩৪)
সবাইকে প্রভু যীশু খ্রীষ্টের ক্রুশীয় রক্তের রক্তিম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমরা আজ মোটামুটি প্রত্যেক খ্রীষ্টানই এই সময় (দুপুর ১২টা থেকে প্রায় ৩টা) একত্র হয়েছি। আমাদের সবার উদ্দেশ্য এক। আমরা আজ উপস্থিত হয়েছি একজন ব্যক্তির মৃত্যুকে স্মরণ করার জন্যমানুষ মাত্রই মরণশীল। আমাদেরও একদিন মরতে হবে, এই পৃথিবীর সমস্ত মায়ামমতা, প্রিয়জন, ধনদৌলত, সহায় সম্পত্তি ছেড়ে যেতে হবে। অনেক অগনিত লোক পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছে। কিন্তু কতজনকে মানুষ স্মরণ করে। কতদিন স্মরন করে। বড় জোর ৩ থেকে ৪ পুরুষ। কাউকে কাউকে কয়েকশ বছর হয়তো পৃথিবীর মানুষ স্মরণ করে। তারপর একদিন শেষ হয়। কিন্তু আজকে আমরা প্রায় ২ হাজার বছর আগের একজন ব্যক্তির মৃত্যু স্মরণ করতে এসেছি। তিনি হলেন আমাদের মুক্তিদাতা পরিত্রানকর্তা প্রভু যীশু খ্রীষ্ট। তিনি যুগ যুগ ধরে স্মরণীয়। তিনি সর্বকালের মানুষের কাছে স্মরনীয়। তাঁর পৃথিবীতে আগমনের অনেক পূর্বেই ভাববাদীগন দ্বারা তাঁর মৃত্যুকে স্মরন করা হয়েছে। তিনি কিভাবে মারা যাবেন সে সম্পর্কে ভবিষ্যদবানী করেছেন। যিশাইয় ৫৩ অধ্যায় বিশেষ করে ৫৩:৭ পদ তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে বলে তিনি উপদ্রুত হইলেন, তবু দুঃখভোগ স্বীকার করিলেন, তিনি মুখ খুলিলেন না; লোমচ্ছেদকদের সম্মূখে নীরব হয়, সেইরূপ তিনি মুখ খুলিলেন না।" কেন যুগ যুগ ধরে হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ তাঁর মৃত্যুকে স্মরণ করে আসছে। কারণ তিনি নিজের জন্য মরেন নাই, তিনি মরেছেন সর্বযুগের সর্বকালের সর্বজাতির মানুষের জন্য। কারণ, ঈশ্বর মানুষকে সৃষ্টি করেছিলেন মানুষের সাথে সহভাগিতা ও সান্নিধ্য লাভ করার জন্য। তাই তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছিলেন নিজের মত করে। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছিলেন নিজের মত পবিত্র, খাঁটি, নিষ্কল্ক করে। তাঁর সমস্ত গুন দিয়ে মানুষকে সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু ঈশ্বরের শত্রু শয়তান তা সহ্য করতে  পারলো না। সে ছলে, বলে, কৌশলে প্রলোভন দেখিয়ে মিথ্যা কথা বলে মানুষকে ঈশ্বরের বিপক্ষে নিয়ে আসল। মানুষ ঈশ্বরের অবাধ্য হলো। ফলে মানুষের জীবনে পাপ আসল। মানুষের জীবনে নেমে আসল দুষ্টতা, দুঃখ, দারিদ্র, হানাহানি, হিংসা, যুদ্ধ। যদিও মানুষের দুষ্টতা প্রযুক্ত ঈশ্বর অনুশোচনা করলেন এবং মনঃপীড়া পেলেন। তবুও মানুষের পথ ভ্রষ্টতা প্রযুক্ত ঈশ্বর হাল ছেড়ে দেননি। তাদের পাপ থেকে মুক্ত করে আবার তাঁর সাথে সম্মিলিত করার জন্যই  তিনি তাঁর পুত্র প্রভু যীশু খ্রীষ্টকে পাঠালেন। তাই তাঁর মৃত্যু পৃথিবীর আদি থেকে শেষ পর্য্যন্ত প্রতিটি মানুষের জন্য স্মরণীয় ও প্রয়োজনীয়।
মানুষ মারা যাওয়ার আগে যখন সে বুঝতে পারে মারা যাবে তখন তার প্রিয়জনের কাছে কিছু কথা বলে যাওয়ার চেষ্টা করে। সেটা হতে পারে কোন উপদেশ বাক্য, সাবধান বানী, কোন গোপন তথ্য। মানুষ মারা যাওয়ার আগে যে, কথাগুলি বলে যায় সেগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ন, খুবই তাৎপর্যপূর্ন ও সত্য।
আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টও তাঁর মৃত্যুর পূর্বে আমাদের জন্য সাতটি বাক্য বলে গেছেন। যা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাণী। সেগুলি আমাদের কাছে সপ্তবাণী হিসাবে পরিচিত। আমরা আজ সেগুলির তাৎপর্য্যপূন্য ব্যাখ্যা আমাদের ভাইদের কাছ থেকে শুনব। আমি আপনাদের সামনে প্রথম বানী সম্পর্কে কিছু তুলে ধরার চেষ্টা করবো।
প্রভু যীশু খ্রীষ্টকে গেৎশিমানী বাগান থেকে ধরে আনার পর রোমীয় সম্রাট পীলাত ও হেরোদের সম্মূখে তিরস্কার করা হয়, তার উপর অকথ্য নির্যাতন করা হয়, তাঁর মুখে থু থু দেওয়া হয়, মাথায় কাঁটার মুকুট পরান হয়, তাকে চাবুক মেরে তাঁর শরীর ছিন্ন ভিন্ন করা হয়। তাঁকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হল। তাঁকে এত নির্মম অত্যাচার করা হয়েছিল যে, তাঁর আকৃতি বিকার প্রাপ্ত হয়েছিল (যিশাইয় ৫২:১৪পদ)। শেষ পর্য্যন্ত ক্রুশে টাঙ্গিয়ে তাঁর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। তবুও তিনি তাঁর শত্রুদের ঘৃণা করেননি, বরং তিনি বললেন, পিতা ইহাদিগকে ক্ষমা কর, কেননা ইহারা কি করিতেছে, তাহা জানে না।" এটাই ছিল ক্রুশের উপর থেকে তাঁর প্রথম বানী।
খ্রীষ্টের ক্রুশীয় প্রথম বানী পাপী মানুষের জন্য একটি প্রার্থনা। এই বানীটিকে যদি আমরা কিছু বিভাজন করি তাহলে দেখি :
পিতা ইহাদিগকে ইহারা জানে না
পিতা: প্রভু যীশু ক্রুশের উপর থেকে বললেন, পিত: ইহাদের ক্ষমা কর।" তাঁর এই উক্তি দিয়ে তিনি ঈশ্বরের সহিত তাঁর সম্পর্ক প্রকাশ করলেন। তিনি ঈশ্বরের পুত্র ছিলেন কারণ তিনি ঈশ্বরকে পিতা বলে সম্বোধন করলেন। আমরা জানি যীশুর পাপ ক্ষমা করার ক্ষমতা আছে। কারণ, বাইবেল বলে, "পৃথিবীতে পাপ ক্ষমা করিতে মনুষ্যপুত্রের ক্ষমতা আছে" (মথি ৯:৬)।  তাছাড়া তিনি পৃথিবীতে থাকা কালীন অনেকের পাপ ক্ষমা করেছেন। যেমন পক্ষাঘাতগ্রস্থ ব্যক্তি। কিন্তু আমরা এখানে দেখি আজকে যীশু নিজে পাপ ক্ষমা করলেন না, তিনি সরাসরি পিতার কাছে মানুষের পাপের জন্য ক্ষমা চাইলেন। কারণ, তিনি তখন আমার আপনার পাপের ভারে জর্জরিত। তিনি চোর, লম্পট, সন্ত্রাসী, দূর্নিতীবাজ, অপহরনকারী সবধরনের পাপের দায় নিলেন। ঈশ্বরের সহিত তাঁর যে সম্পর্ক ছিল তা ছিন্ন হয়েছিল। তিনি একজন সাধারন মানুষ হয়েছিলেন। মানুষ মানুষের পাপ ক্ষমা করতে পারে না। তাই তিনি সরাসরি পিতা ঈশ্বরের কাছে মানুষের পাপের জন্য ক্ষমা চাইলেন।
ইহাদিগকে: আমরা প্রভুর এই বানীতে দেখি তিনি বললেন পিত, ইহাদিগকে ক্ষমা করইহাদিগকে বলতে তিনি কাদের বোঝালেন। তিনি কি শুধু তাদের বুঝিয়েছেন, যারা তাকে ক্রুশে দিয়েছিল, অথবা রোমীয় সৈন্যদের, ফরীশী, সদ্দূকী, অধ্যাপক, ঐ সময়ের সমস্ত লোক না শুধুমাত্র ইস্রায়েল জাতিকে। তিনি এই বানী দ্বারা সর্বকালের, সর্বযুগের, সর্বজাতির মানুষকে বুঝিয়েছেন। বর্তমানে আমরাও সেই ক্ষমার অর্ন্তভূক্ত। আজ তিনি পাপে আবদ্ধ ও অবাধ্য মানুষের জন্য পিতা ঈশ্বরের কাছে তাদের পাপের ক্ষমার জন্য প্রার্থনা করে চলেছেন।
(প্রস্তুত কারক: ডেভিড সরকার)