Monday, April 4, 2011

ক্রুশীয় সপ্তবানী: প্রথম বাণী


প্রথম বাণী: পিতা, ইহাদিগকে ক্ষমা কর, কেননা ইহারা কি করিতেছে, তাহা জানে না।" (লূক ২৩:৩৪)
সবাইকে প্রভু যীশু খ্রীষ্টের ক্রুশীয় রক্তের রক্তিম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমরা আজ মোটামুটি প্রত্যেক খ্রীষ্টানই এই সময় (দুপুর ১২টা থেকে প্রায় ৩টা) একত্র হয়েছি। আমাদের সবার উদ্দেশ্য এক। আমরা আজ উপস্থিত হয়েছি একজন ব্যক্তির মৃত্যুকে স্মরণ করার জন্যমানুষ মাত্রই মরণশীল। আমাদেরও একদিন মরতে হবে, এই পৃথিবীর সমস্ত মায়ামমতা, প্রিয়জন, ধনদৌলত, সহায় সম্পত্তি ছেড়ে যেতে হবে। অনেক অগনিত লোক পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছে। কিন্তু কতজনকে মানুষ স্মরণ করে। কতদিন স্মরন করে। বড় জোর ৩ থেকে ৪ পুরুষ। কাউকে কাউকে কয়েকশ বছর হয়তো পৃথিবীর মানুষ স্মরণ করে। তারপর একদিন শেষ হয়। কিন্তু আজকে আমরা প্রায় ২ হাজার বছর আগের একজন ব্যক্তির মৃত্যু স্মরণ করতে এসেছি। তিনি হলেন আমাদের মুক্তিদাতা পরিত্রানকর্তা প্রভু যীশু খ্রীষ্ট। তিনি যুগ যুগ ধরে স্মরণীয়। তিনি সর্বকালের মানুষের কাছে স্মরনীয়। তাঁর পৃথিবীতে আগমনের অনেক পূর্বেই ভাববাদীগন দ্বারা তাঁর মৃত্যুকে স্মরন করা হয়েছে। তিনি কিভাবে মারা যাবেন সে সম্পর্কে ভবিষ্যদবানী করেছেন। যিশাইয় ৫৩ অধ্যায় বিশেষ করে ৫৩:৭ পদ তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে বলে তিনি উপদ্রুত হইলেন, তবু দুঃখভোগ স্বীকার করিলেন, তিনি মুখ খুলিলেন না; লোমচ্ছেদকদের সম্মূখে নীরব হয়, সেইরূপ তিনি মুখ খুলিলেন না।" কেন যুগ যুগ ধরে হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ তাঁর মৃত্যুকে স্মরণ করে আসছে। কারণ তিনি নিজের জন্য মরেন নাই, তিনি মরেছেন সর্বযুগের সর্বকালের সর্বজাতির মানুষের জন্য। কারণ, ঈশ্বর মানুষকে সৃষ্টি করেছিলেন মানুষের সাথে সহভাগিতা ও সান্নিধ্য লাভ করার জন্য। তাই তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছিলেন নিজের মত করে। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছিলেন নিজের মত পবিত্র, খাঁটি, নিষ্কল্ক করে। তাঁর সমস্ত গুন দিয়ে মানুষকে সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু ঈশ্বরের শত্রু শয়তান তা সহ্য করতে  পারলো না। সে ছলে, বলে, কৌশলে প্রলোভন দেখিয়ে মিথ্যা কথা বলে মানুষকে ঈশ্বরের বিপক্ষে নিয়ে আসল। মানুষ ঈশ্বরের অবাধ্য হলো। ফলে মানুষের জীবনে পাপ আসল। মানুষের জীবনে নেমে আসল দুষ্টতা, দুঃখ, দারিদ্র, হানাহানি, হিংসা, যুদ্ধ। যদিও মানুষের দুষ্টতা প্রযুক্ত ঈশ্বর অনুশোচনা করলেন এবং মনঃপীড়া পেলেন। তবুও মানুষের পথ ভ্রষ্টতা প্রযুক্ত ঈশ্বর হাল ছেড়ে দেননি। তাদের পাপ থেকে মুক্ত করে আবার তাঁর সাথে সম্মিলিত করার জন্যই  তিনি তাঁর পুত্র প্রভু যীশু খ্রীষ্টকে পাঠালেন। তাই তাঁর মৃত্যু পৃথিবীর আদি থেকে শেষ পর্য্যন্ত প্রতিটি মানুষের জন্য স্মরণীয় ও প্রয়োজনীয়।
মানুষ মারা যাওয়ার আগে যখন সে বুঝতে পারে মারা যাবে তখন তার প্রিয়জনের কাছে কিছু কথা বলে যাওয়ার চেষ্টা করে। সেটা হতে পারে কোন উপদেশ বাক্য, সাবধান বানী, কোন গোপন তথ্য। মানুষ মারা যাওয়ার আগে যে, কথাগুলি বলে যায় সেগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ন, খুবই তাৎপর্যপূর্ন ও সত্য।
আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টও তাঁর মৃত্যুর পূর্বে আমাদের জন্য সাতটি বাক্য বলে গেছেন। যা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাণী। সেগুলি আমাদের কাছে সপ্তবাণী হিসাবে পরিচিত। আমরা আজ সেগুলির তাৎপর্য্যপূন্য ব্যাখ্যা আমাদের ভাইদের কাছ থেকে শুনব। আমি আপনাদের সামনে প্রথম বানী সম্পর্কে কিছু তুলে ধরার চেষ্টা করবো।
প্রভু যীশু খ্রীষ্টকে গেৎশিমানী বাগান থেকে ধরে আনার পর রোমীয় সম্রাট পীলাত ও হেরোদের সম্মূখে তিরস্কার করা হয়, তার উপর অকথ্য নির্যাতন করা হয়, তাঁর মুখে থু থু দেওয়া হয়, মাথায় কাঁটার মুকুট পরান হয়, তাকে চাবুক মেরে তাঁর শরীর ছিন্ন ভিন্ন করা হয়। তাঁকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হল। তাঁকে এত নির্মম অত্যাচার করা হয়েছিল যে, তাঁর আকৃতি বিকার প্রাপ্ত হয়েছিল (যিশাইয় ৫২:১৪পদ)। শেষ পর্য্যন্ত ক্রুশে টাঙ্গিয়ে তাঁর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। তবুও তিনি তাঁর শত্রুদের ঘৃণা করেননি, বরং তিনি বললেন, পিতা ইহাদিগকে ক্ষমা কর, কেননা ইহারা কি করিতেছে, তাহা জানে না।" এটাই ছিল ক্রুশের উপর থেকে তাঁর প্রথম বানী।
খ্রীষ্টের ক্রুশীয় প্রথম বানী পাপী মানুষের জন্য একটি প্রার্থনা। এই বানীটিকে যদি আমরা কিছু বিভাজন করি তাহলে দেখি :
পিতা ইহাদিগকে ইহারা জানে না
পিতা: প্রভু যীশু ক্রুশের উপর থেকে বললেন, পিত: ইহাদের ক্ষমা কর।" তাঁর এই উক্তি দিয়ে তিনি ঈশ্বরের সহিত তাঁর সম্পর্ক প্রকাশ করলেন। তিনি ঈশ্বরের পুত্র ছিলেন কারণ তিনি ঈশ্বরকে পিতা বলে সম্বোধন করলেন। আমরা জানি যীশুর পাপ ক্ষমা করার ক্ষমতা আছে। কারণ, বাইবেল বলে, "পৃথিবীতে পাপ ক্ষমা করিতে মনুষ্যপুত্রের ক্ষমতা আছে" (মথি ৯:৬)।  তাছাড়া তিনি পৃথিবীতে থাকা কালীন অনেকের পাপ ক্ষমা করেছেন। যেমন পক্ষাঘাতগ্রস্থ ব্যক্তি। কিন্তু আমরা এখানে দেখি আজকে যীশু নিজে পাপ ক্ষমা করলেন না, তিনি সরাসরি পিতার কাছে মানুষের পাপের জন্য ক্ষমা চাইলেন। কারণ, তিনি তখন আমার আপনার পাপের ভারে জর্জরিত। তিনি চোর, লম্পট, সন্ত্রাসী, দূর্নিতীবাজ, অপহরনকারী সবধরনের পাপের দায় নিলেন। ঈশ্বরের সহিত তাঁর যে সম্পর্ক ছিল তা ছিন্ন হয়েছিল। তিনি একজন সাধারন মানুষ হয়েছিলেন। মানুষ মানুষের পাপ ক্ষমা করতে পারে না। তাই তিনি সরাসরি পিতা ঈশ্বরের কাছে মানুষের পাপের জন্য ক্ষমা চাইলেন।
ইহাদিগকে: আমরা প্রভুর এই বানীতে দেখি তিনি বললেন পিত, ইহাদিগকে ক্ষমা করইহাদিগকে বলতে তিনি কাদের বোঝালেন। তিনি কি শুধু তাদের বুঝিয়েছেন, যারা তাকে ক্রুশে দিয়েছিল, অথবা রোমীয় সৈন্যদের, ফরীশী, সদ্দূকী, অধ্যাপক, ঐ সময়ের সমস্ত লোক না শুধুমাত্র ইস্রায়েল জাতিকে। তিনি এই বানী দ্বারা সর্বকালের, সর্বযুগের, সর্বজাতির মানুষকে বুঝিয়েছেন। বর্তমানে আমরাও সেই ক্ষমার অর্ন্তভূক্ত। আজ তিনি পাপে আবদ্ধ ও অবাধ্য মানুষের জন্য পিতা ঈশ্বরের কাছে তাদের পাপের ক্ষমার জন্য প্রার্থনা করে চলেছেন।
(প্রস্তুত কারক: ডেভিড সরকার)

8 comments:

  1. খুব ভলো লাগলো।চতুর্থ বানীটা শুনতে চাই

    ReplyDelete
  2. Khub valo laglo,sob baniguli sonar apekhay thaklam

    ReplyDelete
  3. বাইবেল ভিত্তিক বিষয়ে online এ ব্যপক দেখতে চাই।

    ReplyDelete
  4. বিষয় টি খুবই ভালো লেগেছে। ৬ষ্ঠ বানীর বিষয় ও শুনতে চাই।

    ReplyDelete
  5. This comment has been removed by the author.

    ReplyDelete