বাইবেল পাঠ: মথি ৪: ১-১১ পদ।
মূল বিষয়: দিয়াবলের প্রতিরোধ কর। (যাকোব ৪:৭)
বাইবেলের এই অংশে আমরা দেখলাম, ঈশ্বরের পূত্র যীশু দিয়াবল দ্বারা পরীক্ষিত হলেন। আমরা জানি আমাদের আদি পিতামাতা আদম ও হবা শয়তানের দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছিলেন এবং তাদের সেই পরীক্ষায় পরাজিত এবং তাদের সেই পরীক্ষায় পরাজিত হওয়ার মাধ্যমে মানুষ শয়তানের অধীনে চলে যায় এবং মানুষ ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পাপ করে। আর সেই পাপ থেকে রক্ষা করতে ঈশ্বর তার একমাত্র পুত্র আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টকে মানুষ বেশে পৃথিবীতে পাঠালেন। ঈশ্বর চাইলেন এই পৃথিবীতে তার রাজ্য প্রতিষ্ঠিত করতে এবং মানুষের সাথে তার আগের সম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে। আর এই রাজ্য প্রতিষ্ঠার ভার তার পুত্র যীশু খ্রীষ্টের উপর দিলেন। আমরা যদি মথি ৩ অধ্যায় দেখি তবে দেখব যীশু যোহন বাপ্তাইজকের মাধ্যমে বাপ্তিষ্ম গ্রহন করলেন এবং ঈশ্বরের আত্না কপোতের ন্যায় যীশুর উপর নেমে আসলেন এবং এর মাধ্যমে তিনি (যীশু) ঈশ্বরের প্রতিষ্ঠার কাজে অভিষিক্ত হলেন। আমরা জানি, বাইবেল বিভিন্ন জায়গায় শয়তানকে "এই যুগের দেব" (২ করিন্থীয় ৪:৪) বা জগতের অধিপতি বলা হয়েছে। শয়তান কখনও চায় না এই পৃথিবীতে ঈশ্বরের রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হোক। তাই প্রভু যীশু খ্রীষ্ট কাজ শুরু করার পূর্বেই শয়তান/ দিয়াবলের দ্বারা বাধার সম্মূখীন হলেন। শয়তান যীশু খ্রীষ্টকে তার অধীনে আনতে চেয়েছিলে। আমরা দেখি শয়তান ৩টি পরীক্ষা বা চ্যালেন্জ্ঞ যীশু খ্রীষ্টকে দিয়েছিল।
প্রথম চ্যালেন্জ্ঞ: প্রথম চ্যালেন্জ্ঞ ছিল, তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও, তবে বল, যেন এই পাথরগুলো রুটি হইয়া যায় (যোহন ৪: ৩ পদ)। এই পরীক্ষার আগে যীশু খ্রীষ্ট ৪০ দিন অনাহারে ছিলেন। ফলে তিনি অত্যন্ত ক্ষুধিত হয়েছিলেন এবং শারীরিকভাবে তিনি অত্যন্ত দূর্বল হয়ে পড়েছিলেন, তার বাচার জন্য খাদ্য ছিল সেই মূহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়। আর শয়তান যীশুর এই দূর্বল মূহূর্তে সঠিক পরীক্ষাটি করলেন। শয়তান যীশুর ক্ষমতা সম্পর্কে ভালভাবে জানত এবং তিনি যে ঈশ্বরের পূত্র সেটাও খুব ভালভাবে জানত এবং এই মুহূর্তে খাদ্য যীশুর জন্য যে একান্ত প্রয়োজন সেটাও জানত। আর সবকিছু জেনেশুনে শয়তান যীশুকে এই কঠিন প্রলোভনে/ পরীক্ষায় ফেলল। সে যীশুকে চ্যালেন্জ্ঞ করলেন তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও, তবে বল, যেন পাথরগুলি রুটি হইয়া যায়।
যীশু খ্রীষ্ট অত্যন্ত বিগ্ঞতার এবং ক্ষিপ্রতার সাথে ঈশ্বরের বাক্য ব্যবহার করলেন, তিনি বললেন " মনুষ্য কেবল রুটিতে বাচিবে না, কিন্তু ঈশ্বরের মুখ হইতে যে প্রত্যেক বাক্য নির্গত হয় তাহাতেই বাচিবে।" এইভাবে যীশু দিয়াবলের প্রথম চ্যালেন্জ্ঞ মোকাবিলা করে তাকে প্রতিরোধ করলেন।
দ্বিতীয় চ্যালেন্জ্ঞ: দ্বিতীয় চ্যালন্জ্ঞে দেখি, প্রথম পরীক্ষার পরই দিয়াবল যীশু খ্রীষ্টকে ছেড়ে গেল না। সে আবার তার পিছু নিল এবং তাকে যিরুশালেম মন্দিরের চূড়ার উপর নিয়ে গেল এবং তাকে আবার চ্যালেন্জ্ঞ করল, তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও, তবে নীচে ঝাপ দিয়া পড় কেননা লেখা আছে, তিনি আপন দূতগনকে তোমার বিষয়ে আগ্ঞা দিবেন, আর তাহারা তোমাকে হস্তে করিয়া তুলিয়া লইবেন পাছে তোমার চরণে প্রস্তরের আঘাত লাগে। শয়তান এখানেও যীশু খ্রীষ্টের ক্ষমতাকে চ্যালেন্জ্ঞ করেছিল। কিন্তু যীশু এবারও ঈশ্বরের বাক্য দ্বারা শয়তানকে প্রতিরোধ করলেন। তিনি বললেন, " তুমি আপন ঈশ্বর প্রভুর পরীক্ষা করিও না।"
তৃতীয় চ্যালেঞ্জ: তৃতীয় চ্যালন্জ্ঞে দেখি, শয়তান তাও যীশুকে ছাড়লেন না। সে এবার যীশুকে উঁচু পাহাড়ের উপর নিয়ে গেলেন এবং সেখান থেকে যীশুকে শয়তান তার রাজ্য এই জগতের সমস্ত রাজ্য, প্রতাপ দেখাল এবং তাকে লোভ দেখাল এবং বলল তুমি যদি আমাকে/ শয়তানকে ভূমিষ্ঠ হইয়া প্রণাম কর তবে এই সমস্তই আমি তোমাকে দিব।
শয়তান যীশুকে জগতের সমস্ত রাজ্য দিতে চেয়েছিল, যার মালিক শয়তান। কিন্তু সে চেয়েছিল যীশু খ্রীষ্ট/ ঈশ্বরের পূত্রের বশ্যতা স্বীকার। সে ঈশ্বরের পূত্র যীশু খ্রীষ্টের কাছে পূজা, ভক্তি, সেবা চেয়েছিল, বিনিময়ে সে তার সমস্ত ক্ষমতা, প্রতাপ, অহংকার তাকে দিতে চেয়েছিল।
কিন্তু আমরা দেখি প্রভু যীশু তার দায়িত্বে অনড় ছিলেন। সে শয়তানের বশ্যতা স্বীকার করার পরিবর্তে তাকে ধমক দিয়ে বললেন, দূর হও শয়তান, কেননা লেখা আছে, “তোমার ঈশ্বর প্রভুকেই প্রনাম করিবে, কেবল তাহারই আরাধনা করিবে।"
এইভাবে যীশু শয়তানের প্রতিটি পরীক্ষা ঈশ্বরের জ্ঞান দ্বারা রুখে দিয়ে শয়তানের প্রতিরোধ করলেন।
উপসংহার: খ্রীষ্টেতে প্রিয় ভাইবোনেরা এই জগতে যারা ঈশ্বরের পক্ষে চলতে চায় বা ঈশ্বরের রাজ্য বিস্তারে কাজ করি প্রত্যেকেই দিয়াবলের প্রতিরোধের সম্মূখীন হতে হয়। বাইবেলে আমরা দেখি, আদম হবা, রাজা দায়ূদ, ইয়োব এমনকি প্রভু যীশু খ্রীষ্টকেও শয়তানের বাধার সম্মূখীন হতে হয়েছিল। অনেককেই শয়তানের বশ্যতা স্বীকার করতে হয়েছে। আবার অনেকে প্রাণপণ যুদ্ধ করে শেষ পর্য্যন্ত ঈশ্বরের রাজ্যের পক্ষে কাজ করেছেন। যেমন ইয়োব। বর্তমান জগতে ও আমাদের বিশেষ করে আমরা যারা ঈশ্বরের পক্ষে চলতে চাই আমাদের প্রতিনিয়ত শয়তানের বাধার সম্মূখীন হতে হয়। শয়তান বিভিন্ন কৌশল, রূপ, মাধ্যম এবং সমস্যা সৃষ্টি করে ঈশ্বরের কাছ থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে রাখতে চায় এবং ঈশ্বরের রাজ্য বিস্তারে বাধার সৃষ্টি করে।
বাইবেল উৎসাহ দেয় “দিয়াবলের প্রতিরোধ কর'’। আমরা যদি তা করি তাহলে সে আমাদের হইতে পলায়ন করবে। (যাকোব: ৪:৭)। এর অর্থ কি এই যে, যদি আমরা শয়তানের আক্রমনকে প্রতিরোধ করি তাহলে সে হাল ছেড়ে দেবে আর কখনও আমাদের বিরক্তি করবে না? না, সে বার বার চেষ্টা করবে তার ইচ্ছানুসারে কাজ করাতে। কিন্তু আমরা যদি তাকে প্রতিরোধ করেই চলি তাহলে সে কখনও আমাদের ঈশ্বরের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে প্ররোচিত করতে পারবে না। অতএব আসুন আমরা বাইবেলের জ্ঞানে জ্ঞানবান হই এবং তা অভ্যাস করতে শ্রমশীল হই। আর দিয়াবলের প্রতিরোধ করি। (প্রস্তুত কারক: ডেভিড সরকার)
No comments:
Post a Comment